http://themonthlymuktidooth.blogspot.com

Thursday, September 22, 2011

Getting bless and Thanks after Cross Firing:প্রতিটি ক্রসফায়ারের পর শত শত থ্যাংকসও দোয়া পাই : বাবর


‘বিচারকরা ফোন করে বলেন, গুড জব’ সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের ফাঁস করাতারবার্তায় এসেছে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ। এর কয়েকটি সংক্ষেপে তুলে ধরা হল :

বাংলাদেশে পুলিশ ও র্যাবের হাতে ক্রসফায়ারের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌছেছে। ২০০৪ সালে পুলিশের গুলিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪০ এ। এদের মধ্যে শুধু ‘ক্রসফায়ার’ এর নামে মারা হয়েছে ১৬৯ জনকে। র্যাবের গুলিতে নিহতের সংখ্যাও একশ’ ছুই ছুই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহতের এই সংখ্যা ২০০৩ সালের দ্বিগুণ। পরিসংখ্যানে মনে হচ্ছে ২০০৫ সালেই নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। ক্রসফায়ারের নামে এই হত্যাকাণ্ডের তুমুল সমালোচনা হচ্ছে দেশে এবং বিদেশে। কিন্তু তাতে কোনো গাত্রদাহ নেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরের। বিচারবহির্ভূত এসব হত্যাকান্ডে তাকে বরং কিছুটা ‘গর্বিত’ বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, বাবর বলেছেন, ‘এক একটি ক্রসফায়ারে কেউ নিহত হবার পর মানুষের নিকট থেকে আমি শত শত থ্যাকংস ও দোয়া পাই! এমনকি বিচারকরাও ফোন করে আমাকে উত্সাহ দিতে বলেন, গুড জব!’

সাড়া জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকসের দ্বারা ফাঁস হওয়া একটি মার্কিন তারবার্তা থেকে এই তথ্য জানা গেছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস থেকে ২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি তারবার্তাটি পাঠান তত্কালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এই তারবার্তায় পুলিশ ও র্যাবের গুলিতে ক্রসফায়ারের নামে হত্যাকান্ডের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

তারবার্তায় ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত লেখেন, ২০০৪ সালের জুনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) গঠন করা হয়েছে। এতে শতকরা ৭০ ভাগ সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ৩০ ভাগ পুলিশ বাহিনীর সদস্য নেয়া হয়েছে। প্রথম মাসেই র্যাবের হাতে হেফাজতে থাকা আসামীর ক্রসফায়ারের নামে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ক্রসফায়ারের পর যে বিবৃতি দেয়া হয় তার একটি সাথে অন্যটির সামান্যই ব্যবধান আছে। সবগুলোরই একই ফরম্যাট। তফাত্ কেবল নিহতের নাম ও ঘটনাস্থলের। প্রথমে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগ কেউ একজন আটক হবে। এরপর কোনো এক রাতে স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তাকে নিয়ে ‘অস্ত্র উদ্ধার’ করতে যাওয়া হবে। অন্ধকারে ওত্ পেতে থাকা ওই সন্ত্রাসীদের সহযোগীরা হামলা করবে। এরপর দুই পক্ষের গোলাগুলি শুরু হবে। দুই পক্ষের গুলির মাঝে পড়ে ‘ক্রসফায়ারে’ আটক ব্যক্তির মৃত্যু হবে। ঘটনা ভিন্ন, গল্প সব এক।

তারবার্তায় আরো লেখা হয়, র্যাব যে ‘উন্মত্ত’ আচরণ করছে তাতে বাংলাদেশ সরকারের সিনিয়র কর্তাব্যক্তিদের বিন্দুমাত্র উদ্বেগ নেই। বরং তাদের তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে দেখা যাচ্ছে। আইনমন্ত্রী এ ব্যাপারে আমাদের কাছে দাবি করেছেন, ক্রসফায়ারে যারা নিহত হচ্ছে সবাই সন্ত্রাসী, দেশবাসী ক্রসফায়ারকে ভালোভাবেই নিচ্ছে। চিন্তার কোনো কারণ নেই। অন্যদিকে র্যাবের ‘বস’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর বলেছেন, এ ব্যাপারে বেশি আলোচনা না করাই ভাল। কারণ, খারাপ কিছু তিনি দেখছেন না। তিনি দাবি করেছেন, এক একটি ক্রসফায়ারে যখন একজন করে মানুষ নিহত হবার খবর আসে তখন তার কাছেও শত শত টেলিফোন আসে! টেলিফোনকারীরা অভিনন্দন জানায় ও মন ভরে দোয়া করে! এমনকি বিচারকরাও নাকি তাকে ফোন করে ক্রসফায়ারে উত্সাহিত করেন! বাবর বলেছেন, ক্রসফায়ার হচ্ছে স্বল্পমেয়াদি একটা কৌশল। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ এই ক্রসফায়ারের সমালোচনা করছে। কারণ ক্রসফায়ারে তাদের সন্ত্রাসীরাই মারা যাচ্ছে।

২০০৪ সালের বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের পরিসংখ্যান দিতে গিয়ে তারবার্তায় লেখা হয়, র্যাবের হাতে ৭৯ জন, পুলিশের হাতে ১২৮ জন, চিতা, কোবরা এবং অন্যান্য বাহিনীর হাতে ৩৩ জন নিহত হয়েছে।

তারবার্তায় মন্তব্য অংশে লেখা হয়, যত গল্পই সাজানো হোক না কেন, সন্দেহ নেই যে এসব হত্যাকান্ড ইচ্ছাকৃত এবং পরিকল্পিত। আগেও ক্রসফায়ার ছিল। কিন্তু র্যাব গঠনের পর এই ঘটনা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। পুলিশও আগের চেয়ে দ্বিগুণ উত্সাহিত হয়ে গেছে।

No comments: