Saturday, March 11, 2017

Press release from Jatiyo Somajtantrik Dol-JASOD




দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাসদের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়
বৃষ্টি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই আজ ১১ মার্চ ২০১৭ শনিবার বিকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাসদের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বৃষ্টি দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া উপেক্ষা করে দুপুর ২টা থেকেই জাসদের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা ব্যানার-ফেস্টুন-পতাকা হাতে নিয়ে ক্যাপ মাথায় মিছিল করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশস্থলে সমবেত হতে থাকেন। বিকাল ৩টায় দলীয় সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপির সভাপতিত্বে সমাবেশের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। বিকাল টা নাগাদ সমাবেশস্থল পূর্ণ হয়ে উপচেপরা নেতা-কর্মীরা আশপাশে অবস্থান নেন। 

সভাপতি হাসানুল হক ইনু ছাড়াও সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, কার্যকরী সভাপতি এড. রবিউল আলম, সহ-সভাপতি মীর হোসাইন আখতার, স্থায়ী কমিটির সদস্য . আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি ইকবাল হোসেন খান, রেজাউল করিম তানসেন এমপি, আব্দুল হাই তালুকদার, এড. হাবিবুর রহমান শওকত, এড. শাহ জিকরুল আহমেদ, কাজী রিয়াজ, আফরোজা হক রীনা, এড. মজিবুল হক বকু, শফি উদ্দিন মোল্লা, শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন খান জকি, লোকমান আহমেদ, নুরুল আখতার, নাদের চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন রাঙ্গা, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, শওকত রায়হান, নইমুল আহসান জুয়েল, রোকনুজ্জামান রোকন, এড. সাদিক হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাক এড. আবদুল হাই মাহবুব, মোঃ খালিদ হোসেন, আব্দুল আলীম স্বপন, মোঃ নুরুন্নবী, মীর্জা মোঃ আনোয়ারুল হক, ঈশরাজুর রহমান শামীম, গোলাম মারুফ মনা, জাহাঙ্গীর আলম প্রমূখ।  

সভাপতির ভাষনে হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশ জঙ্গি দমনের যুদ্ধ পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্কগুলো চিহ্নিত হয়েছে। জঙ্গিবাদী নেটওয়ার্কগুলো ধ্বংসের অভিযান চলছে। তবে জঙ্গিরা এখনও সম্পূর্ণ পরাজিত হয়নি। আত্মসমর্পন করেনি। জঙ্গিবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক জঙ্গিসঙ্গী খালেদা জিয়া জঙ্গির সঙ্গীত্ব ত্যাগ করেনি। জঙ্গি ৎপাদন-পুনরুৎপাদনের কারখানা বিএনপি এখনও প্রকাশ্যেই জঙ্গির সঙ্গী হয়েই আছে। 
জনাব ইনু ছড়া কেটে বলেন,  জঙ্গি আর খালেদা,  জঙ্গি আর খালেদা,
নয় কখনো আলাদা।  নয় তারা আলাদা

জনাব ইনু বলেন, জঙ্গি দমনের যুদ্ধের চশমা দিয়ে দেশের চলমান রাজনীতি ভবিষ্যত রাজনীতির গতি-প্রকৃতি দেখতে হবে। জনাব ইনু বলেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই সাংবিদানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী যথাসময়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান যেমন অপরিহার্য ঠিক তেমনই জঙ্গিবাদের সম্পূর্ণ পরাজিত করা এবং জঙ্গির সঙ্গীকেও গণতান্ত্রিক রাজনীতির মাঠ থেকে বর্জন বিদায় করাও অপরিহার্য। জনাব ইনু বলেন, নির্বাচন বা কোনো অজুহাতেই জঙ্গি জঙ্গি-সঙ্গীর সাথে আপস, সমঝোতা বা মিটমাটের সুযোগ নেই। নির্বাচন জঙ্গি জঙ্গির সঙ্গীকে হালাল করার দলকষাকষির বিষয় না জনাব ইনু বলেন, জঙ্গি দমনের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই জাতিকে রাজনীতি অর্থনীতির দুইটি অংক মেলাতে হবে। 

জনাব ইনু বলেন, এক নম্বর অংক হচ্ছে
জঙ্গি জঙ্গিসঙ্গীকে কোনো ছাড় না দিয়ে শুন্য সহিষ্ণ নীতির ভিত্তিতে দমন অভিযান অব্যাহত রাখা। 
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, দুর্নীতির বিচার, আগুনে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার বিচার অব্যাহত রাখা। 
শান্তি উন্নয়নের ধারা বেগবান করা
সংবিধান অনুযায়ী যথা সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। 


আর দুই নম্বর অংক হচ্ছে
জাতীয় অর্থনীতিকে সাবলম্বিতা সমৃদ্ধির পথে আরেক ধাপ এগিয়ে নেয়া। 
অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে শোষণ-বৈষম্য-দারিদ্র-দুর্নীতির অবসান করা। 
সুশাসন সমাজতন্ত্রের পথে বাংলাদেশ পরিচালিত করা। 

জনাব ইনু বলেন, এই দুই অংক একই সাথে মিলাতে হবে। একটি আগে, একটি পরে, একটি এখন, একটি তখন নয়Ñ দুই অংক এখনই একই সাথে মিলাতে হবে। 

জনাব ইনু বলেন, এই দুই অংক একই সাথে মিলাতে পারলেÑ বাংলাদেশে আর কোন দিনই রাজাকাররা বা রাজাকার সমর্থিত সরকার বা সামরিক সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে, নির্বাচনেমুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকারদের মধ্যে মিউজিকাল চেয়ার খেলা চিরদিনের জন্য বন্ধ হবে। বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে শুধু মুক্তিযোদ্ধারাই খেলবে। জনাব ইনু বলেন, এখনও অনেকেরাজাকারদের সাথে মিলমিশ-মিটমাট-আপস-ক্ষমতার ভাগ না দিলে দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বা সংকট দূর হবে নাবলে তত্ত্ব দেন।  রাজাকারদের সাথে মিটমাটের এই তত্ত্বকেওদ্বি-জাতি তত্ত্বে মতই কবর দেয়া হবে। 

জনাব ইনু বলেন, নির্বাচন কখনই বিএনপির আসল এজেন্ডা না। বিএনপিনির্বাচনবানির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারএর কথা বলে তাদের দিকে জনগণের অভিযোগের আঙ্গুল অন্যদিকে ঘুরাতে চায়। বিএনপিনির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারেরনামে দেশ সংবিধানের বাইরে ঠেলে দিয়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি করে অস্বাভাবিক সরকার আনতে চায়। বিএনপিরনির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারেরদাবি দেশকে সংবিধানের বাইরে ঠেলে দেয়ার পাতাফাঁদ’, সংবিধান গণতন্ত্রের জন্যগলার ফাঁসবলে জনাব হাসানুল হক ইনু মন্তব্য করেন। 

হাসানুল হক ইনু জাসদ কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জাসদ নেতার দল না, কর্মীদের দল। জাসদ নেতাদের ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির হিসাব নিকাষ না করে, জাতীয় কর্তব্য জনগণের স্বার্থের হিসাব করে রাজনৈতিক নীতি-কৌশল প্রণয়ন করে। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ বিরোধী চলমান যুদ্ধে বিজয় এবং বাংলাদেশ সুশাসন সমাজতন্ত্রের পথে পরিচালিত করতে জাসদের নেতা-কর্মীরা সংগ্রামের পথে বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে যাবে

বার্তা প্রেরক 

দফতর সম্পাদক

 Sangbadik Majid, 
Peelkhana 1 No Gate, Post Office Masjid Mess,
Dhaka

No comments: