Wednesday, January 4, 2017

ইসি নিয়োগে আইন চায় অধিকাংশ দল ১১ দলের সঙ্গে সংলাপ করেছেন রাষ্ট্রপতি * সার্চ কমিটি ও সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের দাবি * কমিশনের সদস্য সংখ্যা ৮ করার প্রস্তাব

নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে সংবিধানের নির্দেশনা মেনে দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে আলাদা নামের তালিকাও হস্তান্তর করেন দলগুলোর নেতারা। একই সঙ্গে তারা সার্চ কমিটি এবং সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব দেন। কমিশনে এক বা একাধিক নারী সদস্য নিয়োগ, কমিশনের সদস্য সংখ্যা আটে উন্নীত করা, কমিশনকে স্বাধীন ও শক্তিশালী করার কথা বলেন নেতারা।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে দলগুলোর নেতারা প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। তবে কৌশলগত কারণে কোনো দলই প্রস্তাবিত নামগুলো প্রকাশ করেননি।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষে আগামী ফেব্র“য়ারিতে দায়িত্ব নেবে নতুন ইসি। ওই কমিশনের অধীনেই ২০১৯ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসি পুনর্গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নিয়ে সংলাপে বসার উদ্যোগ নেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রথম দফায় গত ১২ ডিসেম্বর পাঁচটি দলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানায় বঙ্গভবন। গত ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসার মধ্য দিয়ে সংলাপ শুরু হয়। সোমবার পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), ইসলামী ঐক্যজোট এবং জাতীয় পার্টি- জেপিসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করেন।
বিএনপির ৩ প্রস্তাব : ইসি পুনর্গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি সুনির্দিষ্ট তিনটি প্রস্তাব দিয়েছে। এগুলো হল : সার্চ কমিটি গঠন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ এবং আরপিও সংশোধনসহ ইসি শক্তিশালীকরণ। সব দলের মতক্যৈর ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে দলটি। তারা সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে সার্চ কমিটির সদস্য এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনারসহ ১০ জনের নামের একটি তালিকাও রাষ্ট্রপতির কাছে হস্তান্তর করে দলটি। এ তালিকায় সাবেক প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাবেক আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসিসহ একজন নারী সদস্যের নাম রয়েছে।
বঙ্গভবনে গত ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিএনপির সংলাপের সময় সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনারের যোগ্যতার বিষয়টিও বিএনপির আলোচনায় উঠে আসে। দল নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য, দক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে এসব কমিটি করার অনুরোধ জানানো হয়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়।
জাতীয় পার্টির ৫ প্রস্তাব : রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির নেতারা নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধান মেনে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন বছরের শুরুতে দশম জাতীয় সংসদের যে অধিবেশন বসবে, সম্ভব হলে সেই অধিবেশনেই এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন দলটি সংলাপে অংশ নিয়ে ইসি পুনর্গঠন ইস্যুতে পাঁচ দফা প্রস্তাবনাও তুলে ধরে।
জাতীয় পার্টির পাঁচ দফা প্রস্তাবনাগুলো হল : সংবিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা। এতে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখা হবে। নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া প্রস্তাবে নির্বাচন কমিশনারদের বিষয়ে নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স, পেশাগত যোগ্যতা, নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়তা না থাকা, অন্য অফিসে নিয়োগে বিধিনিষেধ ও চারিত্রিক স্বচ্ছতার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এসব অন্তর্ভুক্ত করে বর্তমান সংসদেই এ আইন পাস করার কথা উল্লেখ করা হয়। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়।
এলডিপির ১৭ দফা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ৯ দফা প্রস্তাব : রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য চলতি দশম জাতীয় সংসদেই আইন প্রণয়নসহ ১৭ দফা প্রস্তাব দিয়েছে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটিতে কারা স্থান পেতে পারেন তার একটি তালিকাও রাষ্ট্রপতির কাছে দিয়েছে দলটি। এলডিপির উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবের মধ্যে আছে- সংবিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়ন। নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের জন্য আলাদা সচিবালয় গঠন; নির্বাচন কমিশনারদের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স নির্ধারণ, নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, অন্য অফিসে নিয়োগে বিধিনিষেধ, নির্বাচনসংক্রান্ত বিষয়জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না থাকা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকালীন প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন ও তাদের পুলিশের ন্যায় ক্ষমতা প্রদান করা।
গত ২১ ডিসেম্বর বঙ্গভবনের দরবার হলে প্রথমে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এলডিপির সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সঙ্গে। এতে নির্বাচন কমিশনে একজন নারী সদস্য নিয়োগের দাবিসহ ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।
সংলাপ শেষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘অনেকে মনে করেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নেই। আমাদের বা রাষ্ট্রপতির সৌভাগ্য যে সংবিধানে ১১৮ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির জন্য কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। তিনি স্বাধীন ও মুক্তভাবে ইসি গঠন করতে পারেন।’ তিনি রাষ্ট্রপতিকে বছরে কমপক্ষে দু’বার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার অনুরোধ করেছেন। এ নেতা বলেন, ‘সার্চ কমিটির জন্য কারও নাম প্রস্তাব করিনি। সার্চ কমিটি করেই হোক আর না করেই হোক, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যেভাবে ইসি গঠনে কাজ করবেন তার সঙ্গেই আমরা থাকব।’
সার্চ কমিটি-ইসিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারীদের চায় জাসদ : মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সংবিধানের চার মূল নীতিতে আস্থাশীল ব্যক্তিদের নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের জন্য সার্চ কমিটি ও ইসি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বে জাসদের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদল গত ২৬ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নেয়। এতে তারা সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করাসহ সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। আইন প্রণয়নের পূর্বে নির্বাচন কমিশন গঠন বিষয়ে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি ও হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি এবং দেশের সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত এমন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে বাছাই কমিটি গঠন করার প্রস্তাব দেয়া হয়।
সাংবিধানিক কাউন্সিলসহ ইসি নিয়োগে আইন চায় ওয়ার্কার্স পার্টি : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন গঠনে সংবিধান অনুযায়ী আইন চায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। এ ছাড়া সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলের নেতা, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিয়ে সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনসহ ৮ দফা প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। সাংবিধানিক কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের জন্য নাম প্রস্তাব করবে। রাষ্ট্রপতি তাদের পরামর্শমতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের নিয়োগ করবেন। বিকল্প হিসেবে নির্বাচন কমিশন নিয়োগের জন্য রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি, দুদক চেয়ারম্যান, মহাহিসাবরক্ষক এবং নিয়ন্ত্রক ও অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধানদের নিয়ে এ সার্চ কমিটি গঠন করতে পারেন। গত ২৭ ডিসেম্বর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেননসহ তার দলের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এ প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন এবং সার্চ কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রস্তাব দেয় আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। ইসলামী ঐক্যজোটের আট ও বিএনএফের পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন দল দুটির নেতারা। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো নিরসনের দাবি জানিয়েছেন জেপির নেতারা। বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির নেতারাও ইসি গঠনে আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।

সৌজন্যে : দৈনিক যুগান্তর

লিটন হত্যা ঘিরে রহস্য : গোয়েন্দারা ঘনিষ্ঠদেরও সওয়াল করতে পারেন





গাইবান্ধা- আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা কোনো সুনির্দিষ্ট রহস্য উদঘাটন করতে না পারলেও ৫টি বিষয় নিয়ে নানা প্রম্নের উত্তর খুঁজছে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩০ জনকে আটকের কথা পুলিশ বললেও তাদের নাম প্রকাশ করেনি। হত্যাকান্ড নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য আসলেও তদন্ত সংস্থাগুলো এখনো অন্ধকারেই আছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের নানামুখি প্রশ্নে এমপির ঘনিষ্ঠজন, পরিবারের সদস্য দলীয় রাজনৈতিক কোন্দলে প্রতিপক্ষদের সন্দেহের মধ্যেই রাখা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে পুলিশ তাদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত এমপি লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত নানা বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত কাজ চলছে। তবে পর্যন্ত হত্যাকান্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এমপি লিটন হত্যার ঘটনায় রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত আরো জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথম দফায় আটক ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জনকে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি জনকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। : তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমপি হত্যায় জঙ্গি জামায়াতকে সন্দেহের পাশাপাশি কিলিং মিশনের অল্প কিছুণ আগে লিটনের বাড়ি পুরোপুরি খালি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে। সাধারণত এমপিরা বাড়িতে গেলে বাড়ির আশপাশে স্থানীয় নেতাকর্মী তদবির পার্টির ভিড় থাকে। কেন এমপির বাড়ির আশপাশের কোনো লোক ছিল না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন দুপুরের পর থেকে বাড়িতে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং লিটনের সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ার বিষয়টিকে রহস্য উন্মোচনের অন্যতম প্রধান সূত্র হিসেবে মনে করা হচ্ছে। বাড়িতে থাকা এমপির ঘনিষ্ঠভাজনকে পুলিশ নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সরকারদলীয় আলোচিত এই এমপির দুটি অস্ত্রই থানায় জমা থাকায় তার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর পুলিশি নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। হত্যাকান্ডের আগে লিটনের বাড়ি প্রায় পুরো খালি হয়ে যাওয়ার দৃশ্যপট তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। এমপির দুই গাড়িচালক এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক গতিবিধি হত্যাকান্ডের মাত্র ১০ মিনিট আগে বাড়ির সার্বণিক গৃহকর্মী সৌমিত্রের ডিম আনতে বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। : এদিকে ঘটনার দিন দুপুর থেকে এমপির সঙ্গে কোনো সাাৎপ্রার্থীর দেখা না হওয়ার বিষয়টি ঘিরেও রহস্য দানা বাঁধছে। একটি সূত্র জানায়, এমপি কিছুদিন আগে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ১৯ কোটি টাকা ঋণ নেন। বিপুল পরিমাণ এই ব্যাংক ঋণ পারিবারিক অর্থসম্পদ নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার নিকটাত্মীয়দের মনোমালিন্য চলছিল। হত্যাকান্ডের পেছনে জামায়াত-শিবির বা জঙ্গি কানেকশনের বাইরে পারিবারিক কলহকেও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে লিটনের দুই গাড়িচালক গৃহকর্মী সৌমিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া তার দুই শ্যালক বেদারুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম, স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি, বড় ভাই বদরুল কারিমিন বাদল এবং বাড়ির কেয়ারটেকার ইউসুফ আলীকে নানা ছলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। : তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, একাধিক কারণের মধ্যে উগ্রপন্থিদের ওপরই তাদের সন্দেহের তীর। তবে এলাকার রাজনৈতিক কোনো বিরোধ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া পরিবারিক, দলীয় ব্যক্তিগত বিষয়ও খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থাগুলো। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই অজানা আতঙ্ক কাজ করছিল এমপি লিটনের। কয়েক দফায় তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ শিশুর ওপর গুলির ঘটনার পর থেকে অস্ত্র জব্দ ছিল এমপির। এলাকাবাসী একাধিক সূত্র বলছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার ঠিক পরপরই সুন্দরগঞ্জ বামনডাঙ্গা স্টেশন রোডে নিজের ব্যবসায়িক অফিসে বসতেন এমপি লিটন। বেশির ভাগ সময়ই এমপির সঙ্গে থাকতেন তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি। অফিসে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে পুলিশ ফোর্স চাওয়া হতো। তৎণাৎ বামনডাঙ্গা তদন্তকেন্দ্র থেকে ফোর্স পাঠানো হতো আনুমানিক তিন কিলোমিটার দূরত্বের এমপি লিটনের বাসায়। ফোর্স পরিবেষ্টিত হয়েই প্রতিদিন তিনি অফিসে যেতেন এবং বাসায় পৌঁছে ফোর্স বিদায় করে দিতেন। এর আগ পর্যন্ত ফোর্স তার সঙ্গেই থাকত। ঘাতকরা সবকিছুই রেকি করে হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। : জানা যায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় এমপির দোতলা বাড়ির সামনে বিশাল খেলার মাঠ আছে। ঘটনার দিন দুপুরের পর থেকে ওই মাঠে ১৪-১৫ জন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। কিশোরদের প্রায় প্রত্যেককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এদের মধ্যে জুয়েল রানা নামে এক কিশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে জবানবন্দি দেয়। এতে সে জানায়, দুপুরের পর থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে যুবক এমপির বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। বিকাল ৪টার দিকে ওই পাঁচ যুবকের একজন তাদের বলে, ‘এই তোরা এখানে কী করিস? তোদের খেলতে হবে না। তোরা বাড়ি যা।তখন জুয়েল তাদের বলে, ‘তোমরা কারা? আমাদের খেলতে নিষেধ করার তোমরা কে?’ এরপর মোটরসাইকেল আরোহী যুবকরা সেখান থেকে চলে যায়। : প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত ডিআইজি সাঈদুর রহমান বলেন, ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য স্থানীয় অনেকের সাাৎকার নেয়া হয়েছে। : পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক খন্দকার ফারুক বলেন, এমপিরা চাইলে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ফোর্স দেয়া হয়। নিহত এমপির েেত্রও এর ব্যতিক্রম ছিল না। সাধারণত তিনি বাসা থেকে কোথাও গেলে ফোর্স চাইতেন। বাসায় পৌঁছে দেয়ার পর ফোর্সকে তিনি চলে যেতে বলতেন। তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে পিবিআই ্যাব মাঠে কাজ করছে। : : : : :

সৌজন্যে : দৈনিক দিনকাল



ভোটারবিহীন সরকারকে আর কোন ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হবে না ........... এনডিপি



আজ জানুয়ারি ২০১৭ বুধবার ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা এনডিপি চেয়ারম্যান  খোন্দকার গোলাম মর্ত্তুজা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, ২০১৪ সালের জানুয়ারি ভোটবিহীন নির্বাচনে ক্ষমতা অবৈধভাবে দখল করে গণতন্ত্রের সাড়ে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে অবৈধ সরকার। তারা জনগণের শুধু ভোটের অধিকার হরণ করেনি, বরং জনগণকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার নিজেদের এমপি মন্ত্রী এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যানদেরকেও জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারেনি। গত বছরের শেষ দিনে বেডরুমে ঢুকে বর্তমান সরকারের সাংসদ লিটনকে দুর্বৃত্তরা নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ২০১৫-তে ফেনীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ইকরামকেও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে সারাদেশে হত্যাযজ্ঞ চলছে। গুম, খুন, নারী শিশু নির্যাতন সরকারের উপহার ছাড়া জনগণের কল্যাণের জন্য কিছুই করতে পারেনি। সেই অবৈধ সরকার জানুয়ারি যখন গণতন্ত্র রক্ষা দিবস পালন করে তখন গণতন্ত্রের ভাষাই উল্টে যায়। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের অধিকার শুধু হরণই করেনি, তাদেরকে রাজপথে নামতে বাধাগ্রস্ত করার জন্য হামলা-মামলা-গুম-খুনের পথ বেছে নিয়েছে।
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপি নেতৃবৃন্দ বলেন, ভবিষ্যতে অবৈধ সরকারকে আর কোন          জানুয়ারির মতো নির্বাচন করার সুযোগ দেয়া হবে না। জনগণের ভোটের অধিকার ভাতের অধিকার রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি পক্ষ থেকে   জানুয়ারি কালো দিবস উপলক্ষে যে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ইতিমধ্যে বর্তমান সরকার সেই সমাবেশ বানচাল করার জন্য প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছে যা রাজনীতির জন্য অত্যন্ত দু:খজনক। সমাবেশ সফল করার জন্য সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান এবং আসুন, জানুয়ারি আমরা সকলে কালো দিবস পালন করি।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আপনারা দেখেছেন, ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের কেউ অংশগ্রহণ করেনি, পাশাপাশি বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাসদ (রব), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ দেশের বড় বড় কোন দলই নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী দেয়নি, বরং বর্জন করেছে। যারা সেই নির্বাচন বর্জন করেছে, তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জানুয়ারিকে কালো দিবস পালনের মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের নামে লুটপাটের রাজনীতির সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
নেতৃবৃন্দ অপর এক বিবৃতিতে গুলশান--এর ডিএনসিসি মার্কেটের ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মীতা জানিয়ে বলেন, যে সমস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাধারণ ব্যবসায়ী আগুনে সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হয়ে গেছে তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।

 Sangbadik Majid, Peelkhana, Hazaribag-lalbag,
Dhaka

Monday, January 2, 2017

Congratulation from Muktidooth Media to New Elected Executive Committe of National Press Club - Bangladesh



নবনির্বাচিত সকলকে অভিনন্দন
জাতীয় প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত নেতাদের অভিনন্দন অভিনন্দন শফিক-ফরিদা প্যানেল বিজয়ের মাসে বিজয় মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির,সকলমুক্তিকামীমানুষের.
নির্বাচনে মুহম্মদ শফিকুর রহমান ৬৭২ ভোট পেয়ে সভাপতি, সিনিয়র সহসভাপতি পদে সাইফুল আলম ৮০৭ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ফরিদা ইয়াসমিন ৪৩৯, কোষাধ্যক্ষ পদে কার্তিক চ্যাটার্জি ৪৭৮ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে শাহেদ চৌধুরী ৬২৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন একই সঙ্গে সরকার সমর্থক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ প্যানেল ১৭টি পদের মধ্যে ১৪টিতে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে
Mainuddin/ Majid, 
Baily Road,Dhaka 01672774603


জাতীয় সংবাদিক সংস্থা - প্রেস রিলিজ




প্রেস বিজ্ঞপ্তি
          জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৩৫তম বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ৩৫তম বার্ষিক সাধারণ সম্মেলন ৩১ ডিসেম্বর শনিবার সকালে ঢাকার বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন সংস্থার সভাপতি মুহম্মদ আলতাফ হোসেন এবং দ্বিতীয় পর্বে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল। সম্মেলনে বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন সংস্থার মহাসচিব সাজ্জাদুল কবীর অর্থনৈতিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সংস্থার অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শাহাদা হোসেন রিটন। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মীর লিয়াকত আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ শাহ্জাহান মোল্লা, সহ-সভাপতি আলমগীর গনি, যুগ্ম-মহাসচিব কাজী সিরাজুল ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সামসুল আলম জুলফিকার, সাংগঠনিক সচিব আবুল বাশার, সহকারী মহাসচিব আবু মুসা, প্রচার সম্পাদক ডা: এসএম সারওয়ার হোসেন, ঢাকা আঞ্চলিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সংস্থার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু হানিফ খান। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সংস্থার স্থায়ী পরিষদ, নির্বাহী পরিষদ সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ সবাই উপস্থিত ছিলেন
সভায় মুহম্মদ আলতাফ হোসেন বলেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ৩৫ বছর যাবত সাংবাদিক নিয়ে পেশাগত মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। তিনি সকলকে ইতিবাচক সাংবাদিককতা করার আহ্বান জানান
লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল বলেন, মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র সু-শাসন নিশ্চিত করতে শক্তিশালী গণমাধ্যম অপরিহার্য। তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা দেশের উন্নয়নে সর্বদা কাজ করে আসছেন, কিন্তু টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ সাংবাদিকতা

বার্তা প্রেরক

ডা: এসএম সারওয়ার হোসেন
প্রচার সম্পাদক
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা
Sangbadik Majid, Gausul Azam New Market, Dhaka