Wednesday, January 4, 2017

লিটন হত্যা ঘিরে রহস্য : গোয়েন্দারা ঘনিষ্ঠদেরও সওয়াল করতে পারেন





গাইবান্ধা- আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য (এমপি) মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা কোনো সুনির্দিষ্ট রহস্য উদঘাটন করতে না পারলেও ৫টি বিষয় নিয়ে নানা প্রম্নের উত্তর খুঁজছে। ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩০ জনকে আটকের কথা পুলিশ বললেও তাদের নাম প্রকাশ করেনি। হত্যাকান্ড নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য আসলেও তদন্ত সংস্থাগুলো এখনো অন্ধকারেই আছে বলে জানা গেছে। তবে পুলিশের নানামুখি প্রশ্নে এমপির ঘনিষ্ঠজন, পরিবারের সদস্য দলীয় রাজনৈতিক কোন্দলে প্রতিপক্ষদের সন্দেহের মধ্যেই রাখা হচ্ছে। বিভিন্নভাবে পুলিশ তাদের ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত এমপি লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত নানা বিষয় সামনে রেখেই তদন্ত কাজ চলছে। তবে পর্যন্ত হত্যাকান্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এমপি লিটন হত্যার ঘটনায় রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত আরো জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রথম দফায় আটক ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জনকে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকি জনকে অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। : তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমপি হত্যায় জঙ্গি জামায়াতকে সন্দেহের পাশাপাশি কিলিং মিশনের অল্প কিছুণ আগে লিটনের বাড়ি পুরোপুরি খালি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি গোয়েন্দাদের ভাবিয়ে তুলেছে। সাধারণত এমপিরা বাড়িতে গেলে বাড়ির আশপাশে স্থানীয় নেতাকর্মী তদবির পার্টির ভিড় থাকে। কেন এমপির বাড়ির আশপাশের কোনো লোক ছিল না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিন দুপুরের পর থেকে বাড়িতে দর্শনার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং লিটনের সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ার বিষয়টিকে রহস্য উন্মোচনের অন্যতম প্রধান সূত্র হিসেবে মনে করা হচ্ছে। বাড়িতে থাকা এমপির ঘনিষ্ঠভাজনকে পুলিশ নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সরকারদলীয় আলোচিত এই এমপির দুটি অস্ত্রই থানায় জমা থাকায় তার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পর পুলিশি নিরাপত্তার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। হত্যাকান্ডের আগে লিটনের বাড়ি প্রায় পুরো খালি হয়ে যাওয়ার দৃশ্যপট তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে। এমপির দুই গাড়িচালক এক গৃহকর্মীর রহস্যজনক গতিবিধি হত্যাকান্ডের মাত্র ১০ মিনিট আগে বাড়ির সার্বণিক গৃহকর্মী সৌমিত্রের ডিম আনতে বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনাও অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। : এদিকে ঘটনার দিন দুপুর থেকে এমপির সঙ্গে কোনো সাাৎপ্রার্থীর দেখা না হওয়ার বিষয়টি ঘিরেও রহস্য দানা বাঁধছে। একটি সূত্র জানায়, এমপি কিছুদিন আগে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক থেকে ১৯ কোটি টাকা ঋণ নেন। বিপুল পরিমাণ এই ব্যাংক ঋণ পারিবারিক অর্থসম্পদ নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার নিকটাত্মীয়দের মনোমালিন্য চলছিল। হত্যাকান্ডের পেছনে জামায়াত-শিবির বা জঙ্গি কানেকশনের বাইরে পারিবারিক কলহকেও গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে লিটনের দুই গাড়িচালক গৃহকর্মী সৌমিত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এছাড়া তার দুই শ্যালক বেদারুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম, স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি, বড় ভাই বদরুল কারিমিন বাদল এবং বাড়ির কেয়ারটেকার ইউসুফ আলীকে নানা ছলে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। : তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, একাধিক কারণের মধ্যে উগ্রপন্থিদের ওপরই তাদের সন্দেহের তীর। তবে এলাকার রাজনৈতিক কোনো বিরোধ রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া পরিবারিক, দলীয় ব্যক্তিগত বিষয়ও খতিয়ে দেখছে তদন্ত সংস্থাগুলো। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই অজানা আতঙ্ক কাজ করছিল এমপি লিটনের। কয়েক দফায় তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল দুর্বৃত্তরা। সর্বশেষ শিশুর ওপর গুলির ঘটনার পর থেকে অস্ত্র জব্দ ছিল এমপির। এলাকাবাসী একাধিক সূত্র বলছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার ঠিক পরপরই সুন্দরগঞ্জ বামনডাঙ্গা স্টেশন রোডে নিজের ব্যবসায়িক অফিসে বসতেন এমপি লিটন। বেশির ভাগ সময়ই এমপির সঙ্গে থাকতেন তার স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি। অফিসে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে পুলিশ ফোর্স চাওয়া হতো। তৎণাৎ বামনডাঙ্গা তদন্তকেন্দ্র থেকে ফোর্স পাঠানো হতো আনুমানিক তিন কিলোমিটার দূরত্বের এমপি লিটনের বাসায়। ফোর্স পরিবেষ্টিত হয়েই প্রতিদিন তিনি অফিসে যেতেন এবং বাসায় পৌঁছে ফোর্স বিদায় করে দিতেন। এর আগ পর্যন্ত ফোর্স তার সঙ্গেই থাকত। ঘাতকরা সবকিছুই রেকি করে হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছে। : জানা যায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গায় এমপির দোতলা বাড়ির সামনে বিশাল খেলার মাঠ আছে। ঘটনার দিন দুপুরের পর থেকে ওই মাঠে ১৪-১৫ জন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। কিশোরদের প্রায় প্রত্যেককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এদের মধ্যে জুয়েল রানা নামে এক কিশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কার্যালয়ে জবানবন্দি দেয়। এতে সে জানায়, দুপুরের পর থেকে দুটি মোটরসাইকেলে করে যুবক এমপির বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। বিকাল ৪টার দিকে ওই পাঁচ যুবকের একজন তাদের বলে, ‘এই তোরা এখানে কী করিস? তোদের খেলতে হবে না। তোরা বাড়ি যা।তখন জুয়েল তাদের বলে, ‘তোমরা কারা? আমাদের খেলতে নিষেধ করার তোমরা কে?’ এরপর মোটরসাইকেল আরোহী যুবকরা সেখান থেকে চলে যায়। : প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত ডিআইজি সাঈদুর রহমান বলেন, ঘটনার রহস্য উন্মোচনের জন্য স্থানীয় অনেকের সাাৎকার নেয়া হয়েছে। : পুলিশের রংপুর রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক খন্দকার ফারুক বলেন, এমপিরা চাইলে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে ফোর্স দেয়া হয়। নিহত এমপির েেত্রও এর ব্যতিক্রম ছিল না। সাধারণত তিনি বাসা থেকে কোথাও গেলে ফোর্স চাইতেন। বাসায় পৌঁছে দেয়ার পর ফোর্সকে তিনি চলে যেতে বলতেন। তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ে তিনি বলেন, এখনো বলার মতো কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে। জেলা পুলিশের সঙ্গে পিবিআই ্যাব মাঠে কাজ করছে। : : : : :

সৌজন্যে : দৈনিক দিনকাল



No comments: